খেলাধুলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলাধুলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস-চতুষ্টয়কে চ্যালেঞ্জ জানাবে নিউজিল্যান্ড?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস-চতুষ্টয়কে চ্যালেঞ্জ জানাবে নিউজিল্যান্ড?


সেই বিখ্যাত পেস চতুষ্টয়
সেই বিখ্যাত পেস চতুষ্টয়
ছবি : টুইটার

অ্যান্ডি রবার্টস, জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং, কলিন ক্রফটের পর ম্যালকম মার্শাল এসে ক্যারিবিয়ান পেস আক্রমণকে করে তুলেছিলেন আগুন। রবার্টস বলতেন, প্রতিপক্ষ তাদের যত রানেই অলআউট করুক না কেন, তাঁরা প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেবেন তার চেয়েও কম রানে।

তবে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল বলছেন, এবার সেই আক্রমণকে চ্যালেঞ্জ জানানোর আরেক চতুষ্টয় এসে গেছে। টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়াগনারের সঙ্গে কাইল জেমিসনের সমন্বয়ে কিউই পেস আক্রমণকে কিংবদন্তি উইন্ডিজ চতুষ্টয়ের সঙ্গে তুলনাও করেছেন চ্যাপেল।




বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ড নেমেছিল স্বীকৃত স্পিনার ছাড়াই। চার পেসারের সঙ্গে ছিলেন অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ফাইনালে তাঁদের পারফরম্যান্স নজরে এসেছে চ্যাপেলের।

কিউই পেস চতুষ্টয়ের আরেকজন - জেমিসন
কিউই পেস চতুষ্টয়ের আরেকজন - জেমিসন
ছবি : এএফপি

ক্রিকইনফোতে লেখা এক কলামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস চতুষ্টয়ের সঙ্গে তুলনার কথাও বলেছেন তিনি, ‘নিউজিল্যান্ডের পেস চতুষ্টয়—টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়াগনার ও কাইল জেমিসন তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্বের দীর্ঘ লড়াইয়ে শেষ দিনে জয় এনেছে। নিউজিল্যান্ড আক্রমণের প্রভাব এমনই ছিল সে জয়ে, ১৯৭০ থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত শাসন করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয়ংকর আক্রমণের সঙ্গে তুলনার কথাও উঠেছে এরপর।’

সে তুলনায় যে পরিসংখ্যান টেনেছেন চ্যাপেল, তাতে এগিয়ে নিউজিল্যান্ডের চারজনই, ‘আমার মতে, ভয়ংকর সেসব চতুষ্টয়ের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা কম্বিনেশন ছিল অ্যান্ডি রবার্টস, ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং ও জোয়েল গার্নারের। পেসের কথা বললে নিশ্চিতভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুষ্টয় বিনা বাক্যে এগিয়ে থাকবে। তবে ফল কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সে কম্বিনেশন একসঙ্গে খেলেছে মাত্র ৬টি ম্যাচ, তারা না হারলেও ৩টি হয়েছিল ড্র।’

সাউদি, বোল্ট, ওয়াগনার ও জেমিসনরা একসঙ্গে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৫টি ম্যাচ, নিউজিল্যান্ড হারেনি একটিও। অবশ্য এই ৫টির মধ্যে ৪টিই নিউজিল্যান্ড খেলেছে ঘরের মাঠে। শেষ যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, সেটিও হয়েছে হ্যাম্পশায়ারের পেস-সহায়ক কন্ডিশনে। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ ম্যাচই ড্র হয়েছিল বাজে আবহাওয়ার কারণে।

ওয়াগনার, বোল্ট ও সাউদি
ওয়াগনার, বোল্ট ও সাউদি
ছবি : স্টাফ নিউজিল্যান্ড

অবশ্য ক্যারিবীয়দের যে পেস–চতুষ্টয় খেলেছে বেশি, সে কম্বিনেশনকে বেছে নেননি চ্যাপেল। রবার্টস, গার্নার, হোল্ডিংয়ের সঙ্গে কলিন ক্রফট মিলে খেলেছিলেন ১১টি ম্যাচ। এর মধ্যে পাঁচটি জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ড্র হয়েছিল পাঁচটি, তারা হেরেছিল একটিতে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই চতুষ্টয়নীতি অবশ্য নিউজিল্যান্ডের এই দলের আগে সে অর্থে পরে আর কোনো দল গ্রহণ করেনি । তবে ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার রে লিন্ডওয়াল, কিথ মিলার, বিল জনস্টন ও রন আর্চারের কথা বলেছেন চ্যাপেল। চারজনই নতুন বলে দারুণ ছিলেন, গতিও ছিল তাঁদের। তাঁদের মধ্যে মিলার ছিলেন আবার অলরাউন্ডার। ফলে তাঁদের সঙ্গে দুজন স্পিনার খেলানোর সুযোগও পেত অস্ট্রেলিয়া। চ্যাপেলের মতে, সর্বকালের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ ছিল।

রোনালদোর যে রেকর্ড এখন মেসির

রোনালদোর যে রেকর্ড এখন মেসির


অবশ্য মেসির এই নকআউট পর্বে গোলের প্রায় সবই এসেছে কোপা আমেরিকায়। এখন পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ খেললেও নকআউট পর্বে ৮ ম্যাচে মাঠে নেমেও কোনো গোল করতে পারেননি মেসি, গোল করিয়েছেন শুধু তিনটি।

বাংলাদেশ সময় আজ সকালে কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে ফ্রি কিক থেকে চোখধাঁধানো একটি গোল করেছেন মেসি, দলের বাকি দুই গোলও তিনিই করিয়েছেন রদ্রিগো দি পল ও লাওতারো মার্তিনেজকে দিয়ে। অর্থাৎ তিনটি গোলেই জড়িয়ে আছে মেসির নাম।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে গোলে অবদানের রেকর্ডের শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছিলেন মেসি। দুজনেরই গোলে অবদান ছিল ১৭টি।

ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতানো রোনালদো নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ডটা এতদিন দখলে রেখেছিলেন।
ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ জেতানো রোনালদো নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ডটা এতদিন দখলে রেখেছিলেন। 
ফাইল ছবি

বড় টুর্নামেন্ট বলতে বিশ্বকাপ তো আছেই, এর পাশাপাশি ইউরোপের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ইউরো, দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে কোপা আমেরিকা, এশিয়ার খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এশিয়ান কাপের মতো মহাদেশীয় টুর্নামেন্টকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সেখানে নকআউট পর্বে মেসি ২০ গোলে অবদান রেখে সবার ওপরে আছেন। এর মধ্যে তিনি গোল করেছেন ৫টি, করিয়েছেন ১৫টি। রোনালদো নাজারিওর ১৭ গোলে অবদানের মধ্যে তিনি গোল করেছেন ১৩টি, করিয়েছেন ৪টি।


শিক নন, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখনো রোনালদোই এগিয়ে

শিক নন, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখনো রোনালদোই এগিয়ে




ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

অনেকে বলতে পারেন, কেন? বলাটাই স্বাভাবিক। পরিসংখ্যান বলছে, শিক ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—দুজনই এখন পর্যন্ত পাঁচটি করে গোল করেছেন এই ইউরোতে। সে হিসাবে যদি অন্য কেউ এই দুজনকে টপকাতে না পারেন সে ক্ষেত্রে গোল্ডেন বুট ভাগাভাগি করার কথা এ দুজনেরই।

গোল করলেও দলকে জেতাতে পারেননি শিক
গোল করলেও দলকে জেতাতে পারেননি শিক
ছবি : রয়টার্স

কিন্তু ইউরোর নিয়ম বলছে অন্য কথা। সে নিয়মের কারণে শিক নন, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখনো সবচেয়ে বেশি অধিকার রোনালদোরই। তাঁর দল পর্তুগালও এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।

২০০৮ ইউরোর আগে থেকে উয়েফা নিয়ম করেছে, দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে যে বেশি গোলে সহায়তা করেছেন, তিনি এগিয়ে থাকবেন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে। আর এখানেই কিস্তিমাত করেছেন রোনালদো। পাঁচ গোল করার পাশাপাশি জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দিওগো জোতাকে দিয়ে একটা গোলও করিয়েছেন।

সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এ দুজনের পেছনেই আছেন যথাক্রমে বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু (৪), সুইডেনের এমিল ফর্সবার্গ (৪), ফ্রান্সের করিম বেনজেমা (৪)—প্রত্যেকের দলই বিদায় নিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।

স্টার্লিং ও কেইন - দুজনের সামনেই সুযোগ রোনালদোকে ছাড়ানোর।
স্টার্লিং ও কেইন - দুজনের সামনেই সুযোগ রোনালদোকে ছাড়ানোর।
ফাইল ছবি: এএফপি

রোনালদোর হাত থেকে গোল্ডেন বুটটা কেড়ে নিতে হলে তিন গোল করে তালিকায় এর পরেই থাকা ডেনমার্কের ক্যাসপার ডলবার্গ, ইংল্যান্ডের উইঙ্গার রাহিম স্টার্লিং ও অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে হাতে থাকা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচের মধ্যে অন্তত দুটি গোল করতেই হবে। সে ক্ষেত্রে এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে একটি অ্যাসিস্ট করে ফেলা স্টার্লিং এগিয়ে থাকবেন।


আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এখনো পাওয়া হয়নি রোনালদোর। সব মিলিয়ে তাই বলা যায়, দল ব্যর্থ হলেও নিজের ব্যক্তিগত আরেকটি অর্জনের খুব কাছাকাছিই আছেন রোনালদো।